আগরতলা, ২৫ আগস্ট (হি.স.) : রাজ্যের সবুজায়ন ও পরিবেশ রক্ষায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করলেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। তিনি বলেন, শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। রোপণ করা গাছগুলিকে পরিচর্যার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও সকলকে নিতে হবে। একই সঙ্গে বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় প্রত্যেককে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মঙ্গলবার এডি নগরস্থিত ত্রিপুরা হর্টিকালচার কর্পোরেশন লিমিটেডের উদ্যোগে ‘এক পের মা কে নাম’ শীর্ষক বনমহোৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক মীনা রানি সরকার, ত্রিপুরা হর্টিকালচার কর্পোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টরসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিক ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানের সূচনায় রাজ্যপাল বৃক্ষরোপণ করেন। পরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ত্রিপুরা হর্টিকালচার কর্পোরেশন লিমিটেড রাজ্যে সবুজ বিপ্লবের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য ত্রিপুরা গড়ে তুলতে এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে।
রাজ্যপাল বলেন, সবুজায়নের এই কর্মকাণ্ডকে কোনও একটি দফতর বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এর সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাস্তার পাশে এবং বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজের পরিধি আরও বাড়াতে হবে। তবে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, একটি চারা রোপণ করার পর সেটিকে বড় করে তোলার দায়িত্বও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অনেক সময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে চারা রোপণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে যথাযথ পরিচর্যার অভাবে সেই গাছ নষ্ট হয়ে যায়। তাই প্রতিটি রোপিত গাছকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে বনাঞ্চল রক্ষা এবং নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করার বিষয়েও জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।


