আগরতলা, ২১ আগস্ট (হি.স.): রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য বড়সড় স্বস্তির ঘোষণা করল ত্রিপুরা সরকার। ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেডের অনুমোদিত বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুলের ১০০ শতাংশই রাজ্য সরকার বহন করবে। চলতি বছরের মে মাস থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। শুক্রবার মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলন করে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতনলাল নাথ।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি থেকে কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী চান রাজ্যের মানুষ যেন কোনওভাবেই অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে না পড়েন। মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান থেকেই সরকারের জনমুখী ও সংবেদনশীল মানসিকতা স্পষ্ট হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী জানান, বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুলের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে ভর্তুকি দেওয়া হবে, তার আওতায় শুধুমাত্র গৃহস্থালী গ্রাহকরাই নন, ছোট, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিরাও থাকবেন। অর্থাৎ বিদ্যুৎ মাসুল বৃদ্ধির ফলে যে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি হয়েছে, তা বহন করবে রাজ্য সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন বলেও দাবি করেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী।
তিনি বলেন, রাজ্যের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতীতে কোনও সরকার এ ধরনের জনদরদী সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তার নজির রাজ্যের ইতিহাসে নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে রেল, অল ইন্ডিয়া রেডিও বা আকাশবাণী, দূরদর্শন এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত পরিষেবার ক্ষেত্রেও বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুলে ১৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিদ্যুৎ মন্ত্রী।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা চলতি বছরের মে মাস থেকে ধরা হবে। ইতিমধ্যেই যেসব গ্রাহক বর্ধিত হারে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে ফেলেছেন, তাঁদের বাড়তি পরিশোধ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে পরবর্তী বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। মন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর—এই তিন মাসের বিলের সঙ্গে ধাপে ধাপে অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ এডজাস্টমেন্ট করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাস থেকে বিদ্যুৎ নিগমের অনুমোদিত বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুল কার্যকর হয়। মাশুল বৃদ্ধির পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানানো হয়। গ্রাহকদের একাংশের অভিযোগ ছিল, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে বিদ্যুৎ বিলের অতিরিক্ত বোঝা সাধারণ মানুষের উপর নতুন করে আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী আগেই বিদ্যুৎ মাশুল নিয়ে গ্রাহকদের স্বস্তি দেওয়ার জন্য সরকার পদক্ষেপ করবে বলে জানিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার পরই বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বর্ধিত মাশুলের সম্পূর্ণ আর্থিক বোঝা সরকারের পক্ষ থেকে বহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে ত্রিপুরার প্রায় ১০ লক্ষ ৬৮ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে গৃহস্থালী গ্রাহকদের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্তের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, সরকারের এই ঘোষণায় তা অনেকটাই প্রশমিত হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বিদ্যুৎ মন্ত্রীর ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে, বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকদের উপর যে অতিরিক্ত চাপ পড়েছে, তা কমাতেই রাজ্য সরকার সরাসরি ভর্তুকির মাধ্যমে সম্পূর্ণ বাড়তি অংশ বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিল সমন্বয়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় ইতিমধ্যেই বর্ধিত হারে বিল পরিশোধকারী গ্রাহকরাও এর সুফল পাবেন।




