আগরতলা, ২২ আগস্ট : বিদ্যুৎ মাশুলে বর্ধিত অংশের উপর রাজ্য সরকারের ১০০ শতাংশ ভর্তুকি প্রদানের ঘোষণাকে ঘিরে এখনই কোনও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না প্রদেশ কংগ্রেস। ভর্তুকি প্রদানের পদ্ধতি, প্রকৃত অর্থের পরিমাণ এবং কোন কোন খাতে এই সুবিধা কার্যকর হবে—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে যাচাই করার পরই দল পরবর্তী অবস্থান ঘোষণা করবে। শনিবার এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা।
চলতি বছরের মে মাস থেকে রাজ্যে নতুন হারে বিদ্যুৎ মাশুল কার্যকর হয়। নতুন মাশুলের ফলে বিদ্যুৎ বিলের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকার বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুলের উপর ১০০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সরকারের এই ঘোষণার পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা সরকারের ঘোষিত ভর্তুকির অঙ্ক নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুলের জন্য রাজ্য সরকারকে ভর্তুকি দিতে হলে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকা প্রয়োজন। অথচ সরকার মাত্র ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ বা যোগানের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে। ফলে বাকি প্রায় ৮৯ কোটি টাকার সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আশীষ কুমার সাহা বলেন, শুধু ১০০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয় না। এর বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, কোন খাতে কত টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে এবং সরকারের ঘোষিত অর্থের সঙ্গে প্রকৃত প্রয়োজনের সামঞ্জস্য কোথায়—এসব বিষয় আগে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সরকারের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পরই কংগ্রেস তার পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান ঘোষণা করবে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ মাশুলের ক্ষেত্রে ভর্তুকি শুধুমাত্র মূল বর্ধিত মাশুলের উপর প্রযোজ্য হবে, নাকি বিভিন্ন ধরনের চার্জ ও অন্যান্য খরচের উপরও এর প্রভাব পড়বে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। ফলে গ্রাহকদের প্রকৃত সুবিধা কতটা হবে, সে বিষয়েও এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের ১০০ শতাংশ ভর্তুকি প্রদানের ঘোষণার পরও বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্তে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কতটা স্বস্তি মিলবে এবং ঘোষিত ভর্তুকির অর্থ কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার পরেই বিদ্যুৎ মাশুল নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করবে প্রদেশ কংগ্রেস। আপাতত সরকারের ঘোষণার বাস্তবায়ন পদ্ধতির দিকেই নজর রাখছে তাঁরা।




