নয়াদিল্লি, ২৪ আগস্ট : যাত্রীদের নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পানীয় জল নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন রেলস্টেশনে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক ও ফিল্টার পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করার বিশেষ অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় রেল। এই অভিযানে জোনাল রেলগুলি পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পরিকাঠামো খতিয়ে দেখবে এবং কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা মেরামত করা হবে।
রেল মন্ত্রকের সোমবারের বিবৃতি অনুযায়ী, রেল বোর্ড জোনাল রেলগুলিকে পানীয় জলের উৎস, ফিল্টারেশন ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ভূগর্ভস্থ ও ওভারহেড ট্যাঙ্ক, পিভিসি ট্যাঙ্ক, ওয়াটার বুথ এবং জলের কল-সহ সমস্ত ব্যবস্থা পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিটি পানীয় জলের ট্যাঙ্ক খালি করে জমে থাকা পলি পরিষ্কার করার পর জীবাণুমুক্ত করা হবে। ট্যাঙ্কের ঢাকনা, ভেন্ট ও ওভারফ্লো পাইপও পরীক্ষা করা হবে, যাতে পাখি, পশু বা শ্যাওলার কারণে জল দূষিত না হয়।
অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাঙ্ক, পাইপলাইন ও ফিল্টার মেরামত করা হবে এবং প্রয়োজন হলে বদলে দেওয়া হবে। পানীয় ও অপানীয় জলের পাইপলাইনের মধ্যে কোনও ভুল সংযোগ রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি পাইপলাইনে লিকেজ চিহ্নিত করে জলের অপচয় রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হ্যান্ডপাম্প ও বোরওয়েল থেকে পানীয় জল সরবরাহ করা হয় এমন জায়গাগুলিতেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। এই উৎসগুলির জল নিয়মিত পরীক্ষা করে তা পানযোগ্য কি না নিশ্চিত করা হবে।
স্টেশনগুলিতে থাকা ওয়াটার কুলার ও ওয়াটার পিউরিফিকেশন সিস্টেমও খতিয়ে দেখা হবে। কুলারের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার, পাইপ ও কলের লিকেজ মেরামত এবং জল সংগ্রহের জায়গার আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ইউভি ও আরও (RO) ব্যবস্থা বসানো হবে। পুরনো বা বিকল যন্ত্রের সার্ভিসিং, ওভারহলিং এবং ফিল্টার-সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সময়মতো বদলানো হবে।
ওয়াটার ভেন্ডিং মেশিনগুলির ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জলমানের মানদণ্ড কার্যকর করা হবে।
রেল আধিকারিকরা জলের উৎস, ট্রিটমেন্টের পরের জল, ট্যাঙ্ক, কুলার, ওয়াটার ভেন্ডিং মেশিন এবং নির্বাচিত কল বা ওয়াটার বুথ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ভৌত, রাসায়নিক ও ব্যাকটেরিয়াল পরীক্ষা করবেন। জলে অবশিষ্ট ক্লোরিনের মাত্রাও প্রতিদিন নজরে রাখা হবে। প্রয়োজন হলে পুনরায় ক্লোরিনেশন বা অন্যান্য সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া ইতিমধ্যে অনুমোদিত নতুন ওভারহেড ও ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্ক তৈরির কাজ এবং পুরনো ট্যাঙ্ক বদলের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে রেল বোর্ড। নতুন পরিকাঠামোর প্রয়োজন হলে অনুমোদনের প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে।
প্রতিটি স্টেশনে কী কী সমস্যা পাওয়া গেল এবং তার সমাধানে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে নজরদারি করতে বলা হয়েছে জোনাল রেলগুলিকে। একই ধরনের পরিষ্কার, পরিদর্শন ও জলমান পরীক্ষা রেল কলোনি এবং কর্মস্থলের পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থাতেও করা হবে।
রেলের দাবি, এই অভিযানের ফলে পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থায় নিয়মিত পরিদর্শন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও জলমান পরীক্ষা আরও জোরদার হবে। এর মাধ্যমে যাত্রী ও রেলকর্মীদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পানীয় জল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।




