বারুইপুর, ৭ জুলাই : দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরে নাবালিকা বালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল । মঙ্গলবার দুই নেত্রী বারুইপুরের সূর্যপুর-রতনপুরে অবস্থিত নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনকে সান্ত্বনা দেন এবং আশ্বাস দেন যে, এই জঘন্য অপরাধের দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে সমস্ত রকম প্রচেষ্টা চালানো হবে। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছ থেকে পুরো ঘটনার বিবরণ শোনেন, তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং ন্যায়ের লড়াইয়ে প্রতিটি পদক্ষেপে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
সাক্ষাতের পর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত সহ সমস্ত প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে প্রশাসন প্রথম থেকেই পীড়িত পরিবারের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা নিয়মিতভাবে পরিবার ও গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন এবং সব রকমের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতি কেবল কোনও স্লোগান বা রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, বরং তা কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। মানুষ শুধু ভাষণ নয়, সরকারের পদক্ষেপ দেখছে। এরই ফলস্বরূপ ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত সহ প্রায় সমস্ত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
অগ্নিমিত্রা পাল ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, যেভাবে একটি ১১ বছরের বালিকাকে জন্মদিনের পার্টির বাহানায় নিয়ে গিয়ে তার ওপর অমানবিক অত্যাচার করা হল এবং তারপর তাকে খুন করা হল, তা মানবতাকে লজ্জিত করে। এই ধরনের অপরাধীদের কেবল জেলে পাঠানোই যথেষ্ট নয়। তারা যদি যাবজ্জীবন জেলে সরকারি খরচে জীবন কাটিয়ে দেয়, তবে তাকে প্রকৃত বিচার বলা যায় না। এই ধরনের মামলায় আইনের অধীনে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত, যাতে পীড়িত পরিবার বিচার পায় এবং সমাজে এই ধরণের অপরাধ করতে চাওয়া ব্যক্তিদের মনে আইনের ভয় তৈরি হয়।
অভিযুক্তদের মদ্যপ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমগ্র রাজ্য জুড়ে অবৈধ মদের দোকানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানো হবে। যেখানেই বেআইনি মদ বিক্রি হবে, সেখানে কঠোর পদক্ষেপ করে সেই সমস্ত দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, সরকারের উদ্দেশ্য কেবল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করাই নয়, বরং ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া। তিনি বলেন, "বিচারে বিলম্ব হওয়া মানে বিচারকে অস্বীকার করা।" তাই সরকার এটা নিশ্চিত করবে যাতে নির্যাতিতার পরিবার দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।






