FIFA World Cup 2026: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে দুর্দান্ত সূচনা করলেন তরুণ ফরোয়ার্ড নেস্টরি ইরানকুন্ডা। রবিবার (১৪ জুন) ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে গ্রুপ-ডি-র ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল। এই ম্য়াচে তুরস্কের বিরুদ্ধে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। আর সেই গোলের পর থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ২০ বছর বয়সি এই তারকা।
ম্যাচের শুরুতেই মিডফিল্ডার পল ওকন-এংস্টলারের লম্বা পাস ধরে দ্রুত প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়েন ইরানকুন্ডা। এরপর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জড়িয়ে দেন জালের বাঁ-দিকের নীচের কোণে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এটি ছিল তাঁর অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
বর্তমানে ইংল্যান্ডের ক্লাব ওয়াটফোর্ড এফসির হয়ে খেলছেন ইরানকুন্ডা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪২ ম্যাচে তিনি করেছেন ৪ গোল এবং ৫ অ্যাসিস্ট। এর আগে ২০২৪-২৫ মরশুমে জার্মানির অন্যতম সফল ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। যদিও মূল দলে খেলার সুযোগ পাননি। পরে মরশুমের একটি অংশ সুইস ক্লাব গ্রাসহপার্সে ধারে খেলেন।
ইরানকুন্ডার জীবনকাহিনি আপনাকে যথেষ্ট অনুপ্রাণিত করবে। তানজানিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা ছিলেন বুরুন্ডি থেকে আসা শরণার্থী। জন্মের মাত্র তিন মাস বয়সেই পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ার পারথ শহরে চলে আসেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় ফুটবল যাত্রা।
পেশাদার ফুটবলে তাঁর উত্থান অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের হাত ধরে। অস্ট্রেলিয়ার এ-লিগে খেলতে নেমে দ্রুত নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন। ক্লাবটির হয়ে ৬১ ম্যাচে ১৬ গোল এবং ৮ অ্যাসিস্ট করেন তিনি। তাঁর গতি, শক্তি এবং দূরপাল্লার শট নেওয়ার ক্ষমতা ইতিমধ্যেই তাঁকে অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলের অন্যতম বড় সম্ভাবনাময় তারকায় পরিণত করেছে।
শরণার্থী শিবির থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের গোলদাতা - নেস্টরি ইরানকুন্ডার যাত্রা শুধু ফুটবলের নয়, অধ্যবসায় ও স্বপ্নপূরণের এক অনন্য গল্প। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর এই পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলের জন্য বড় আশার বার্তা হয়ে উঠতে পারে।

