কলকাতা : কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী শ্রী কিরেন রিজিজু আজ পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সদস্যদের প্রতি জনগনের সেবায় দায়িত্ব ও নিষ্ঠা রাখার আহ্বান জানান। আজ কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নবনির্বাচিত সদস্যদের জন্য লোকসভা সচিবালয়ের Parliamentary Research and Training Institute for Democracies (PRIDE) আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রী রিজিজু বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, আইনসভা চলাকালীন সেখানে উপস্থিতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষাও জরুরি।
বিধানসভার বহু সদস্যই প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করে শ্রী রিজিজু বলেন, প্রত্যেক জনপ্রতিনিধিই প্রথমে নবাগত হিসাবে তাঁদের পথচলা শুরু করেন এবং অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার মাধ্যমে ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, “কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, ধারাবাহিকতা এবং শেখার আগ্রহই একজন কার্যকর আইনপ্রণেতার মূল ভিত্তি।”
গঠনমূলক বিতর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, বিধানসভায় যেমন বক্তব্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই অন্যের বক্তব্য মন দিয়ে শোনাও সমান জরুরি। তিনি বলেন, “অনেক সদস্যই কেবল নিজের বক্তব্য রাখার দিকে মনোযোগ দেন। কিন্তু যাঁরা মন দিয়ে শোনেন, তাঁরা বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন এবং আরও কার্যকর উত্তর দিতে সক্ষম হন। মন দিয়ে শোনা সংসদীয় সংযোগের একটি অপরিহার্য অংশ।”
ভারতকে বিশ্বের প্রাচীনতম গণতন্ত্র হিসাবে উল্লেখ করে শ্রী রিজিজু আর-ও বলেন, দেশের সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটাতে আইনপ্রণেতাদের আচরণ হওয়া উচিত দায়িত্বশীল ও মর্যাদাপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমাদের সংসদীয় প্রতিষ্ঠানের শক্তিই আমাদের গণতন্ত্রের শক্তি নির্ধারণ করে। প্রতিটি আইনপ্রণেতার দায়িত্ব হল, আইনসভার মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও শালীনতা বজায় রাখা।”
শ্রী রিজিজু বলেন, জনপ্রতিনিধিরা পাঁচ বছরের জন্য জনগণের সেবা করার উদ্দেশে নির্বাচিত হন এবং সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা তাঁদের কর্তব্য। “পরিশ্রম করার আগে বিধানসভার নিয়ম, কার্যপ্রণালী এবং প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। একজন কার্যকর আইনপ্রণেতা হওয়ার চাবিকাঠি হল নিরন্তর শিক্ষাগ্রহণ।”
সুশৃঙ্খল কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরে শ্রী রিজিজু বলেন, বিতর্কে অংশগ্রহণের সুযোগ দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। তিনি বলেন, “যাঁরা বিধানসভার শৃঙ্খলা বজায় রাখেন এবং প্রস্তুতি নিয়ে অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন, তাঁদের বক্তব্য শোনার সুযোগও বেশি হয়। শুধুমাত্র স্লোগান দেওয়া বা হট্টগোল করা সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে না।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনসভাগুলিকে আধুনিকীকরণের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহারের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকে ন্যাশনাল ই-বিধান অ্যাপ্লিকেশন (NeVA)–এর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে, এটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল আইনসভা হিসাবে কাজ করতে পারবে। তিনি বলেন, দেশের সব আইনসভাকে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’–এর আওতায় আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং এর সফল বাস্তবায়নে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রক প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা একটি স্মার্ট বিধানসভা হয়ে উঠুক, যেখানে থাকবেন স্মার্ট আইনপ্রণেতারা।”
পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ভূ-কৌশলগত অবস্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শ্রী রিজিজু বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নমূলক পরিসরে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা সমগ্র পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য রাখেন লোকসভার স্পিকার শ্রী ওম বিড়লা, রাজ্যসভার ডেপুটি-চেয়ারম্যান শ্রী হরিবংশ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী।
দু'দিনব্যাপী এই ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে আইনসভার কার্যপ্রণালী, নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা, সংসদীয় কমিটি, আর্থিক কার্যক্রম, আইন প্রণয়নের নৈতিকতা প্রভৃতি বিষয়ে একাধিক কারিগরি অধিবেশনের আয়োজন করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য নবনির্বাচিত সদস্যদের আইন প্রণয়নের সক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা।






